বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলে দেবেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলে দেওয়ার কথা বিবেচনা করবেন। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, বিশ্বকাপ হবে “খুবই নিরাপদ”, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে জানান—প্রয়োজনে হোস্ট সিটিগুলো থেকে তাদের ম্যাচ সরিয়ে দিতে পারেন। সংবাদকর্মীরা সিয়াটল ও স্যান ফ্রান্সিসকো-র নাম উল্লেখ করলে ট্রাম্প আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন এগুলো পরিচালিত হচ্ছে “র‍্যাডিক্যাল বাম উন্মাদদের দ্বারা যারা কী করছে নিজেরাও জানে না,” এবং যদি সেই শহরগুলো প্রশাসনিকভাবে “সহযোগিতা” না করে, তখন তিনি ব্যবস্থা নেবেন—অর্থাৎ নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় থাকলে ম্যাচ সরিয়ে নেবেন বলেও ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, সিয়াটল-এর লুমেন ফিল্ড গ্রুপ স্টেজের চারটি ম্যাচ আয়োজন করবে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র দলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচ (১৯ জুন)। লুমেন ফিল্ড-এ দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি এবং তৃতীয় রাউন্ডের আরো একটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে। আর স্যান ফ্রান্সিসকো-র লিভাই’জ স্টেডিয়ামে গ্রুপ-স্টেজের পাঁচটি ম্যাচ ও দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি ম্যাচ হবে।

২০২৬ বিশ্বকাপ-এর কাজের প্রস্তুতি ফেব্রুয়ারি থেকেই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১১টি হোস্ট সিটি চূড়ান্ত হয়েছে— সিয়াটল ও স্যান ফ্রান্সিসকো-র পাশাপাশি আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, লস এন্জেলস, ক্যানসাস সিটি, মিয়ামি, নিউইয়র্ক/নিউজার্সি এবং ফিলাডেলফিয়া। এর বাইরে মেক্সিকোতে মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্টেরি এবং ক্যানাডায় ভ্যাংকুবার ও টরন্টো ম্যাচ আয়োজন করবে। যখন টুর্নামেন্ট অনেকটাই প্রস্তুত, তখন ম্যাচের ভেন্যু সরানোর বাস্তবতা কতোটা রয়েছে— এ প্রশ্ন উঠেছে।

একই সাথে ট্রাম্পের এই ইচ্ছা আদৌ বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। ভেন্যু এই সময়ে সহজ নয়—চ্যানেলিং, নিরাপত্তা, স্থায়ী খরচ ও ফিফা-র সঙ্গে চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা মেনেই কাজটি করতে হবে। প্রেসিডেন্টের হাতে সরাসরি কোনো স্বতন্ত্র ক্ষমতা আছে কি-না—বিশেষত এমন আন্তর্জাতিক ইভেন্ট-এর ম্যাচ এক শহর থেকে আরেক শহরে সরানোর—এটা স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনি ও প্র্যাকটিক্যাল বাধা অনেক, ফলে এটা কঠিন হবে।

ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ফিফা প্রেসিডেন্ট গিয়ান্নি ইনফান্তিও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। যার মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্তগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হতে পারে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ফিফা-র নিজস্ব নিয়মকানুন আছে। প্রেসিডেন্ট একা সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

এদিকে, বিশ্বকাপের নিরাপত্তার জন্য হোয়াইট হাউস মোট ৬২৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে। প্রতিটি হোস্ট শহরে তাদের প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে আনুপাতিকভাবে বিতরণ করা হবে। শহরগুলোকে তাদের খরচের হিসাব জমা দিয়ে তা ফেরত চাইতে বলা হয়েছে।

৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ড্র হবে ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে। এর মধ্যেই ট্রাম্পের এ বক্তব্য।

এসব বিষয়ে ফিফার কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা নিয়ে প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের কথাই বলেছে। তবে এটা স্পষ্ট, খেলার মাঠ ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও রাজনীতির মাঠ বেশ বিপজ্জনক করে তোলা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *