চেলসির কিংবদন্তি সাবেক কোচ হোসে মরিনহো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরে তিনি কোনো আবেগে ভাসবেন না। বরং তার লক্ষ্য একটাই—বেনফিকার হয়ে জিততে হবে। আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে লিসবনের জায়ান্টরা মুখোমুখি হবে এনজো মায়রেস্কার চেলসির সঙ্গে। আর সেটিই হবে মরিনহোর বহু প্রতীক্ষিত “বাড়ি ফেরা”।
চেলসিতে সোনালি অধ্যায়
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে মরিনহোকে মানা হয় চেলসিতে তার দুই দফার সফল সময়ের জন্য। প্রথমবার ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থেকে তিনি ছয়টি বড় ট্রফি জেতান, যার মধ্যে রয়েছে দুইবার লিগ শিরোপা আর একটি এফএ কাপ। এরপর ইন্টার মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদে সফল অধ্যায় কাটিয়ে আবারও ২০১৩ সালে ফিরে আসেন লন্ডনে। দ্বিতীয়বারও দলকে একটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এনে দেন, তারপর ২০১৫ সালে বিদায় নেন।
আবেগ নয়, লক্ষ্য শুধু জয়ের
মঙ্গলবারের ম্যাচকে ঘিরে মরিনহো বলেন,
“আমি এখানে নিজেকে ঘরেই মনে করি। এর আগে টটেনহ্যাম, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর ইন্টার মিলানের কোচ হিসেবেও এখানে খেলেছি। কিন্তু আমি এখন ব্লু নই। আমি রেড। আর আমার লক্ষ্য জেতা। দুটো দলই জয়ের জন্য নামবে। চেলসি প্রথম ম্যাচে (বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে) হেরেছে, তাই তারা কেবল জয় ছাড়া কিছু ভাববে না। আমাদের তাই দারুণভাবে রক্ষণ সামলাতে হবে, যাতে আমরা জয় পাই।”
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের গ্রুপে চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ, নিউক্যাসল—সবাই আছে। প্রতিটা ম্যাচ কঠিন। তাই আমাদের এখন থেকেই পয়েন্ট তাড়া করতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের সূচি চেলসির চেয়েও কঠিন।”
চেলসি ভক্তরা কি বিদ্রূপ করবে?
দুই দফা কোচিংয়ে বিস্তর সাফল্যের কারণে সমর্থকদের কাছ থেকে বিদ্রূপের শঙ্কা নেই বলেই বিশ্বাস মরিনহোর। তার ভাষায়,
“আমি মনে করি না চেলসি সমর্থকেরা আমাকে বিদ্রূপ করবে। রাস্তায় যখনই দেখা হয়, তখনও তারা ছবি তোলে, সেলফি চায়।”
কোল পামারের অনুপস্থিতি নিয়ে মজার মন্তব্য
চেলসির হয়ে মরিনহোর ফেরা ম্যাচে খেলতে পারবেন না দলের তরুণ তারকা কোল পামার। চোট থেকে সেরে উঠতে সময় লাগছে তার। সাংবাদিকরা এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে মরিনহো মজার ভঙ্গিতে উত্তর দেন।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ বোলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরিনহো বলেন,
“আমি খুশি যে পামার খেলছে না। আমার সময়কার চেলসি ছিল জয়ের মেশিন। বড় বিনিয়োগের সঙ্গে ছিল দারুণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা। কিন্তু পরে দলটা পথ হারায়। যারা ক্লাবকে ভালোবাসে, তাদের জন্য বিষয়টা কঠিন ছিল। মায়রেসকা এসে ধীরে ধীরে পাজল মিলাচ্ছেন, দলকে কনফারেন্স লিগ জিতিয়েছেন। এখন চেলসি ভালো দল। যদি কোল পামার সুস্থ থাকত, সেটা আমার জন্য সমস্যা হতো। যেমন আমার দলের সুদাকভ বা পাভলিদিস না খেললে সেটা আমার জন্য বড় সমস্যা।”
বেনফিকায় নতুন করে শুরুর ঝলক
মরিনহো এক যুগেরও বেশি সময় পর আবার বেনফিকায় ফিরেছেন। ২০০০ সালে প্রথমবার এই দলটির কোচ হয়েছিলেন তিনি। এবার দায়িত্ব নিয়ে শুরুটা হয়েছে আশাব্যঞ্জক। প্রথম তিন ম্যাচে এভিএস ও জিল ভিসেন্তের বিপক্ষে জয়, রিও আভের বিপক্ষে ড্র করেছেন।
তবে সামনে অপেক্ষা করছে ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ। মঙ্গলবার চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ লড়াই শেষে পাঁচ দিন পরই পর্তুগিজ লিগে মুখোমুখি হবেন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী পোর্তোর সঙ্গে। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আজারবাইজানের কারাবাগের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বসে বেনফিকা। সেই ব্যর্থতার দায়ে বরখাস্ত হন আগের কোচ ব্রুনো লাগে। কাজেই মরিনহোর ওপর চাপটা আরও বেশি।
চেলসির সামনে কঠিন পরীক্ষা
চেলসির জন্যও সপ্তাহটা বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার বেনফিকার বিপক্ষে খেলেই শনিবার তাদের মুখোমুখি হতে হবে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা লিভারপুলের। মৌসুম শুরুর পর থেকে চেলসির পারফরম্যান্স এখনও সন্তোষজনক নয়—সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আট ম্যাচে মাত্র তিন জয়। চ্যাম্পিয়নস লিগেও প্রথম ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৩-১ গোলে হার দিয়ে শুরু করেছে মায়রেসকার দল।
তবে মরিনহোর আবেগময় প্রত্যাবর্তনে চেলসির মাঠে মঙ্গলবারের ম্যাচ নিঃসন্দেহে হয়ে উঠবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।