নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে শোনা গেল বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে। আইসিসিকে দেওয়া বার্তায় তিনি লিখেছেন,
“এইবার আমরা বিশেষ কিছু করতে চাই। এটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
এই প্রত্যাশা আর দৃঢ়তা নিয়েই ২৩ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেখান থেকে পরবর্তী গন্তব্য ভারত, যেখানে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের আসর।
প্রথম অভিজ্ঞতা থেকে শেখা, এবার লক্ষ্য জয়
বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলে ২০২১ সালে। করোনার কারণে বাছাইপর্ব বাতিল হলে র্যাংকিংয়ের সুবাদে জায়গা করে নেয় তারা। নিউজিল্যান্ডে সেই টুর্নামেন্টে জ্যোতিদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি—মাত্র একটি জয় আসে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
তবে সেই অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠেছে বড় শিক্ষা। এবার শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়কেই ন্যূনতম লক্ষ্য ধরে এগোতে চাইছে দল। অধিনায়ক জ্যোতির বিশ্বাস, আগের আসরের পর থেকে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে এবং এখন জানে কীভাবে বড় মঞ্চে ম্যাচ জিততে হয়।
শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ক্যাপ্টেনস’ ডে অনুষ্ঠানে জ্যোতি বলেন:
“এটা আমাদের দ্বিতীয় নারী বিশ্বকাপ। আগেরবার আমরা ছিলাম অনভিজ্ঞ, বড় আসরে কীভাবে জেতা যায় সেটা জানতাম না। এরপর থেকে দেশে-বিদেশে অনেক ম্যাচ খেলেছি। এখন আমরা জানি, কিভাবে এই ধরনের টুর্নামেন্টে জয় পাওয়া যায়।”
নারী ক্রিকেটে পরিবর্তনের হাওয়া
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের চিত্র বদলেছে। ২০১৮ সালের এশিয়া কাপ জয় ছিল টার্নিং পয়েন্ট। আগে যেখানে উপেক্ষিত ছিল নারী ক্রিকেট, এখন ম্যাচগুলো নিয়মিত সম্প্রচারিত হয় টেলিভিশন ও ইউটিউবে, দর্শকরাও আগ্রহ নিয়ে দেখেন।
এই বাড়তি আগ্রহকে দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন জ্যোতি। তার ভাষায়:
“আমরা এই বিশ্বকাপ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। আমাদের সবার জন্য এটা বিশাল সুযোগ। নারী ক্রিকেটের প্রতি দেশে এখন আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের দায়িত্ব এই আগ্রহকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া। এখন সময় এসেছে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সমর্থকদের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার।”
দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে নাম লিখিয়ে এবার আর কেবল অভিজ্ঞতা নয়, বরং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী দল। জ্যোতির নেতৃত্বে কতোটা স্বপ্নপূরণ হয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।