টাইগ্রেসদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু আজ

আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে ৩টায় কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। পরিসংখ্যান বলছে লড়াই হবে সমানে সমান। তবে ইতিহাস আর সাম্প্রতিক প্রস্তুতি বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস

বাংলাদেশ নারী দলের জন্য পাকিস্তান মানেই বাড়তি আত্মবিশ্বাস। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে (২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে) বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল। সেটাই ছিল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়। এরপর কোয়ালিফায়ারেও পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সমানতালে লড়েছে।

মোট ওয়ানডে রেকর্ডও সমান—দুই দলই জিতেছে ৮টি ম্যাচ করে।

বাংলাদেশের বাড়তি প্রেরণা

  • পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ তিন বছরে বাংলাদেশ জিতেছে তিনটি ওয়ানডে

  • বাংলাদেশ নারী দলের বিশ্বকাপ অভিষেক (২০১৮) ছিল পাকিস্তানকে হারিয়েই।

  • নিগার সুলতানা পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলেছেন (১১টি), তাই প্রতিপক্ষের বোলারদের দুর্বলতা সম্পর্কে তার ধারণা সবচেয়ে বেশি।

৫ মাস আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললেও প্রস্তুত টাইগ্রেসরা

বাংলাদেশ নারী দল শেষ ওয়ানডে খেলেছে পাঁচ মাস আগে, লাহোরে কোয়ালিফায়ারে। এরপর থেকে আর ওয়ানডে ম্যাচ খেলা হয়নি তাদের। বছরের শুরুতে আয়ারল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারানো, কোয়ালিফায়ারে স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডকে সহজে হারানো – এগুলো ছিল আত্মবিশ্বাসের খোরাক। তবে তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে হেরেছিল ২-১ ব্যবধানে।

প্রায় পাঁচ মাস আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ না খেললেও এ সময়ে মেয়েরা খেলার বাইরে ছিল না। ঘরোয়া ক্রিকেট, হাই-পারফরম্যান্স ইউনিটের ক্যাম্প আর প্র্যাকটিস ম্যাচে সবাই ফর্ম ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে মারুফা আখতার ও রাবেয়া খানের মতো তরুণ বোলাররা নিয়মিত বল হাতে কাজ করেছেন।

অধিনায়ক নিগার সুলতানা স্পষ্ট করে বলেছেন,

“আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেললেও আমরা এক মুহূর্তও অলস বসে ছিলাম না। ব্যাটিংয়ে কোথায় ঘাটতি ছিল, সেটা নিয়েই সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি।”

বাংলাদেশের ভরসা: খেলোয়াড়ভিত্তিক বিশ্লেষণ

  • নিগার সুলতানা: এ বছর ৮ ইনিংসে ৪টি ফিফটি প্লাস স্কোর, যার মধ্যে একটি শতক। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ইনিংসে ২টি হাফ সেঞ্চুরি। অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বই আজ দলের মূল শক্তি।

  • শারমিন আখতার: ২০২৫ সালে গড় করছেন ৫০.৮৫। ওপেনিংয়ে দাঁড়িয়ে গেলে দলের ব্যাটিং লাইনআপকে ভরসা দেন।

  • মারুফা আখতার: তরুণ পেসার, নতুন বলে সুইং করাতে সক্ষম। আয়ারল্যান্ড সিরিজে দারুণ স্পেল করেছিলেন। কলম্বোর ভেজা উইকেটে তার বড় ভূমিকা থাকতে পারে।

  • ফাহিমা খাতুন ও রাবেয়া খান: দুজনেই স্পিন আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানি ব্যাটাররা সাধারণত স্পিনে দুর্বল, বিশেষ করে মাঝের ওভারে।

  • সোহানা মোস্তারী ও  স্বর্ণা আখতার: মাঝের সারির নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। ছোট ছোট পার্টনারশিপ গড়ে দলের রান টেনে নেওয়ার ক্ষমতা আছে।

পাকিস্তানের শক্তি ও দুর্বলতা

পাকিস্তান দল তাদের ব্যাটারদের ওপর নির্ভরশীল—বিশেষ করে সিদরা আমিন, যিনি এ বছর ওয়ানডেতে দুইটি সেঞ্চুরি করেছেন এবং গড়ে ৮৬.৩৩ রান করেছেন। তবে তার স্ট্রাইক রেট ধীর (৭০.৯৫), যা বাংলাদেশি বোলাররা কাজে লাগাতে চাইবে।
অধিনায়ক ফাতিমা সানা বোলিংয়ে ফর্মে থাকলেও, তার বাংলাদেশি ব্যাটারদের বিপক্ষে অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়।

মাঠ ও আবহাওয়া

কলম্বোর কেত্তারামা স্টেডিয়ামে ম্যাচ। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে উইকেটে আর্দ্রতা থাকবে, তাই পেসাররা শুরুতে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। তবে বৃষ্টি হলেও খেলা বন্ধ হয়ে দ্রুতই আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সম্ভাব্য একাদশ

বাংলাদেশ: ফারজানা হক, রুবিয়া হায়দার, শারমিন আখতার, সোহানা মোস্তারী, নিগার সুলতানা (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), স্বর্ণা আখতার, সুমাইয়া আখতার, ফাহিমা খাতুন, জান্নাতুল ফেরদৌস, রাবেয়া খান, মারুফা আখতার।

পাকিস্তান: মুনীবা আলি, ওমাইমা সোহেল, সিদরা আমিন, ফাতিমা সানা (অধিনায়ক), নাটালিয়া পারভেজ, আইমান ফাতিমা, সিদরা খান (উইকেটকিপার), সাইদা আরুব শাহ, ডায়ানা বেগ, রামিন শামিম, নাশরা সান্ধু।

শেষ কথা

বাংলাদেশ নারী দলের জন্য পাকিস্তান একপ্রকার শুভ প্রতিপক্ষ। অতীতে যেমন জয় এসেছে, এবারও সমান সম্ভাবনা আছে। বোলাররা ধারাবাহিক থাকলে আর ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ইনিংস খেললে—কলম্বোতে আজকের ম্যাচ বাংলাদেশেরই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *