আবুধাবিতে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করলো আফগানিস্তান। একদিনের ক্রিকেটে আফগানদের ২৯৩ রানের জবাব দিতে গিয়ে ৯৩ রানে ভেঙে পড়ল বাংলাদেশের তাসের ঘর। ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল আফগানিস্তান।
রানের ব্যবধানে হারের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের ৪র্থ সবচেয়ে বড় হার। এই পরাজয়কে শুধু একটি ম্যাচ বা সিরিজ হিসেবে ভাবলে দারুণ ভুল করা হবে। এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা ও স্বপ্ন নিয়ে অনেক প্রশ্ন হাজির করেছে।
বিশ্বকাপ যোগ্যতার সংকটে বাংলাদেশ
২০২৭ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী ওয়ান ডে বিশ্বকাপ। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া আইসিসি র্যাংকিংযের শীর্ষ ৮ দেশ এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে।
বর্তমানে আইসিসি র্যাংকিংয়ের বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। বাংলাদেশের ওপরে ৯-এ আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ৮-এ আছে ইংল্যান্ড। এদের ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে ওপরে ওঠা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারিয়ে ফেলতে হবে।
ধসে পড়েছে — ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং
এই সিরিজ হারে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। পরিকল্পনার অস্থিরতা দেখা গেছে প্রকটভাবে। এখন হয়তো শূন্য থেকে শুরু করতে হবে সবকিছুই — প্রতিটি ছক, প্রশিক্ষণ, দল নির্বাচন — সবকিছু নতুনভাবে ভাবতে হবে।
বাংলাদেশের এখন একটি পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন দরকার — যেখানে খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে কোচিং, ফিটনেস, মাঠে মানসিক প্রস্তুতি — সবকিছুই পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে অস্থির ক্রিকেট?
রাজনৈতিক সমর্থন ও আনুগত্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব দেওয়া ও সুযোগ দেওয়া — এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সকিব আল হাসান সহ অনেক খেলোয়াড় ও সংগঠক অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে তাদের কার্যকর অবদান রাখতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতা ও পছন্দনির্ভর নিয়োগ ক্রিকেটকে আরও পেছনে ঠেলে দিচ্ছে। সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনেও এই অস্থিরতা ও রাজনীতির কদর্যরূপ দেখেছে বাংলাদেশের মানুষ।
আইসিসি আইনেই আছে, খেলোয়াড় ও সংগঠকরা শুধুমাত্র দক্ষতা, পারফর্ম্যান্স ও পরিশ্রমের ভিত্তিতে সুযোগ পাবে — রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নয়।ক্রিকেট বোর্ডকে অবশ্যই এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে, যাতে রাজনৈতিক প্রভাব পুরোটাই বাদ দেওয়া যায় — এবং যারা যোগ্য শুধু তারাই থাকবে।
করণীয়
এই হারকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলার কোনো সুযোগ নেই। এই নিয়ে টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ হারল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ১২ ওয়ানডের ১১টিতেই হেরেছে টাইগাররা। বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ গভীর সংকটে। বিশ্বকাপের দৌড়ে থাকতে হলে — ভুল থেকে শিখে, সবাই মিলে নতুন পরিকল্পনায় ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে হবে।
দলে শুধু কিছু নাম বদলালেই হবে না। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নতুন করে ভাবতে হবে—পরিকল্পনা, মানসিকতা, এবং পদ্ধতি—সবকিছুই বদলাতে হবে। না হলে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে, কারণ মাত্র আটটি শীর্ষ দলই খেলতে পারবে।